এসএসসি নিয়োগ মামলায় ঐতিহাসিক রায়, ২৫,৭৫৩ চাকরি বাতিল
নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
২০১৬ সালের এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি খারিজ হয়ে গেল। তবে মানবিক কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত এক কর্মীর চাকরি বহাল রাখা হয়েছে।
প্রধান নির্দেশনা:
- নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া: আদালত বলেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ও দুর্নীতি ছিল, যা সংশোধন করা সম্ভব নয়। তাই সম্পূর্ণ নতুন পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ করতে হবে।
- ৩ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন: অবৈধভাবে নিযুক্ত কর্মীদের আগের পদে ফেরত পাঠানোর সময়সীমা ৩ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বয়সসীমা শিথিল: যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষায় বসতে পারবেন, এবং তাঁদের জন্য বয়সসীমা শিথিল করা হবে।
- বেতন ফেরত: অবৈধভাবে চাকরিতে নিযুক্ত কর্মীদের তাঁদের পাওয়া বেতন সুদসহ ফেরত দিতে হবে।
পটভূমি:
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, ওএমআর শিট গায়েব, সুপারিশ ছাড়া চাকরি, এবং নিয়োগে ব্যাপক পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট ২০২৪ সালের এপ্রিলে ২৩,৭৫৩ চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই সংখ্যাটি বাড়িয়ে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
- নতুন পরীক্ষা: রাজ্য সরকারকে দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ: পূর্ববর্তী নিয়োগে যাঁরা সত্যিকার অর্থে যোগ্য ছিলেন, তাঁরা নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
- সরকারের দায়িত্ব: রাজ্য সরকারকে নতুনভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে এবং আদালতের রায় কার্যকর করতে হবে।
এই রায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে, কারণ এটি প্রমাণ করেছে যে দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগের বিরুদ্ধে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন নজর থাকবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং যোগ্য প্রার্থীরা সুবিচার পান কি না।