মাদুরাই, ৩ এপ্রিল ২০২৫: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর ২৪তম সর্বভারতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং সিপিআই(এম)-এর পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাতসহ অন্যান্য বিশিষ্ট নেতারা ভাষণ দেন।
সম্মেলনে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে স্টালিন ফেডারেলিজম, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ভাষাগত অধিকারের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার নীতি এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র বিরোধিতা করেন, বলেন যে তামিলনাড়ু তার ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। এছাড়াও, তিনি সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
তার ভাষণের অন্যতম প্রধান ঘোষণা ছিল চেন্নাইয়ে কার্ল মার্কসের একটি মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব, যা তার সরকারের সমাজতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মতাদর্শের প্রতিফলন।
স্টালিনের মাদুরাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় ডিএমকে ও সিপিআই(এম)-এর কর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সিপিআই(এম)-এর এই কংগ্রেস বামপন্থী নেতাদের জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নীতি, কৌশল এবং জোট নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
স্টালিনের প্রস্তাবিত বিশেষ কর্মসূচি:
১. জাতীয় স্তরে জাতিগত জনগণনার দাবি
কেন্দ্রীয় সরকারকে জাতীয় পর্যায়ে জাতিগত জনগণনা পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অনগ্রসর সম্প্রদায়গুলির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করে তাদের জন্য ন্যায়সঙ্গত সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।
২. সংরক্ষণ নীতি সম্প্রসারণ
- অল ইন্ডিয়া কোটার মেডিকেল আসন: আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে রাজ্যের কোটা থেকে আত্মসমর্পণ করা আসনগুলিতে ওবিসিদের জন্য ২৭% সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছেন।
- বিচার বিভাগে সংরক্ষণ: ওবিসি/এসসি/এসটি সম্প্রদায়ের জন্য বিচারক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সংরক্ষণ দাবি করেছেন।
- ৫০% সংরক্ষণসীমা বাতিল: সংরক্ষণের সীমা ৫০%-এর বেশি করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
৩. সংবিধানে সংশোধনীর প্রস্তাব
দলিত খ্রিস্টানদের জন্য এসসি সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ধর্মান্তরের পর সংরক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।
৪. রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন সুরক্ষা
সংরক্ষণ নীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্যের হাতে রাখতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
৫. নজরদারি ব্যবস্থা
জাতীয় পর্যায়ে ‘সামাজিক ন্যায়বিচার মনিটরিং কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে ওবিসি/এসসি/এসটি সংরক্ষণের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।
৬. আইনি লড়াই ও সাফল্য
ওবিসি কোটার জন্য ডিএমকে-র গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্য তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই সমস্ত পদক্ষেপ অনগ্রসর শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে গ্রহণ করা হয়েছে।
আমি বাংলা সংস্করণ যোগ করে দিয়েছি। যদি আরও কিছু পরিবর্তন বা সংযোজন দরকার হয়, জানাবেন!